সরবরাহ বৃদ্ধি

হিলি ও সাতক্ষীরায় দাম কমেছে আদা-পেঁয়াজের

বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দিনাজপুরের হিলি ও সাতক্ষীরার মসলা বাজারে আদা ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে হিলিতে আদার দাম কমেছে কেজিতে ৪০ টাকা। অন্যদকে সাতক্ষীরায় ১৫ দিনের ব্যবধানে আদার দাম কেজিতে ১২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার বাজারে পেঁয়াজের দামও কেজিতে ১২-১৫ টাকা কমেছে।

সরজমিনে গতকাল হিলি বাজারে দেখা গেছে, ঈদের পর বাজারে দেশী বা ভারতীয় আদার সরবরাহ না থাকলেও চীন থেকে আমদানীকৃত মানসম্মত আদার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বর্তমানে হিলি বাজারে আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে, যা ঈদের সময়ও ২০০ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

হিলি বাজারের আদা বিক্রেতা আবুল হাসনাত জানান, আগে বাজারে দেশী ও ভারতীয় আদার সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে আদা কিনতে হতো। তাছাড়া সেই আদার মানও ভালো ছিল না। বর্তমানে চীন থেকে পর্যাপ্ত আদা আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ভালো এবং দামও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরবরাহ এমন থাকলে সামনে দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন মসলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে আদার দাম ২৪০-২৫০ টাকা থেকে কমে এখন ১২০ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে ৪৪-৪৫ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮-২৯ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ অনেক বেশি থাকায় পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ভোমরা কাস্টম হাউজের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বন্দর দিয়ে ৮৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা মূল্যের ৭৩ হাজার ৬৩৫ টন আদা আমদানি হয়েছে। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৭ টন। সে তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে আমদানি ৪২ হাজার ৩২ টন কমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ বাড়ায় বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শুধু আদা বা পেঁয়াজই নয়, কোরবানির ঈদ-পরবর্তী সময়ে জেলার মসলা বাজারগুলোয় তদারক ও সরবরাহ বাড়ায় সব ধরনের মসলার দামই এখন নিম্নমুখী।’

আরও